অঙ্গুলীর নিয়ম

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় অঙ্গুলীর নিয়ম।

অঙ্গুলীর নিয়ম

 

অঙ্গুলীর নিয়ম

 

সেতারবাদন আরম্ভ এবং স্বরের অধোগতির সময় বামহস্তের তর্জ্জনী এবং স্বরের উর্দ্ধগতির সময় মধ্যম অঙ্গুলির ব্যবহার হইয়া থাকে। এটি অনেকাংশে তানপুরার ন্যায় দেখতে। তুম্বা (লাউ) ও ডান্ডি সমন্বয়ে সেতারে কম-বেশি ১৭টি তার থাকতে পারে। ৩টি থাকে বাজানোর জন্য যেগুলো মা সা পা তে সুর বাঁধা থাকে। এরপর চতুর্থটি থাকে খরজের (বেইজ) সা তে সুর বাঁধা। এরপর থাকে কমপক্ষে ৩টি সঙ্গতকারী তার, যেগুলোকে চিকারীর তার বলে থাকে।

এগুলো সা সা গা তে সুর বাঁধা থাকে। এছাড়াও ৯ থেকে ১৩টি তার থাকে মূর্ছনা ধরে রাখার জন্য। এগুলোকে তড়ফের তারও বলা হয়। উভয় শ্রেণীর তারই তুম্বার উপরিস্থিত বায়ার একপ্রান্ত হতে শুরু হয়ে ডান্ডির উপরিভাগে গিয়ে শেষ হয়। অনেকটা চাবির মতো দেখতে কুন্তি দিয়ে এ তারগুলোকে আটকে রাখা হয়।

যিনি সেতার বাজাতে জানেন তিনি সেতারি, সেতারী কিংবা সেতারবাদক নামে জনসমক্ষে পরিচিত হয়ে থাকেন। আমাদের দেশে সেতার যন্ত্রের বহুল প্রচার, সুতরাং ইহার আকার প্রায় সকলেই জানেন। তজ্জন্য সমুদয় অবয়বের বর্ণনা না করিয়া শুদ্ধ যে গুলি বাদ্যক্রিয়ার বিশেষ উপযোগী, তাহাই বলা বিধেয়। এ দেশ- প্রচলিত অধিকাংশ সেতার যন্ত্রেরই আকার প্রায় তিন হস্তপরিমিত, কিন্তু তদপেক্ষা বৃহদাকারেরও ব্যবহার হইয়া থাকে।

সেতারের খোল বা ধ্বনিকোষ, তলী বা ধ্বনিপট্টক, দাণ্ডা বা দণ্ড, পটরী বা অঙ্গুলিপট্টক, কাণ বা কীলক, তার বা তন্ত্র, পন্থি বা শালায়নী, সওয়ারী বা তন্ত্রাসন, মানুকা বা মানিকা, পর্দ্দা বা সারিকা, তাঁত বা তান্তবসূত্র এবং আড়ি  বা সেতু এই গুলি বিশেষ প্রয়োজনীয়। এতদ্ভিন্ন অন্য যাহা কিছু আছে, তৎসমুদয়ই অলঙ্কারমাত্র ।

 

অঙ্গুলীর নিয়ম

 

সেতারযন্ত্র, খোল ও দাণ্ডা এই দুই প্রধান ভাগে বিভক্ত। খোল অপেক্ষাকৃত বিস্তৃত, অলাবু (লাউ) দ্বারা নির্ম্মিত, সুতরাং প্রায়ই গোলাকার। (খোলের উপরে নিবদ্ধ চক্রাকার কাষ্ঠফলককে তবলী বলে ; এই তলীর গোড়ায় যে অস্থি বা অন্য কোন ঘনপদার্থের এক খণ্ড আবদ্ধ থাকে, তাহার নাম পন্থি ; ঐ পন্থিতে তার সকল সংযোজিত থাকে।

“অঙ্গুলীর নিয়ম”-এ 2-টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন